মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে এবং সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের (সিডিডি) সহযোগিতায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘অর্জিত অভিজ্ঞতা শোনা: প্রকৃত কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন’। সকালে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোছা. সাদরাতুন মুমতাহিনার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূর আলম জামিউল, সিনিয়র জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদমান সাকিব এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. জলধী নাথ রায়।
এ ছাড়া সিডিডির প্রজেক্ট সুপারভাইজার ময়নুল ইসলাম, প্রজেক্ট ফিল্ড ম্যানেজার মুকুল কিস্কু, পরিচর্যাকারী তাপসী রানী, লায়লা, ফারহানা, মোশাররফ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি মকিমুল ও হোসনে আরাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, দেশে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের মধ্যে ৯২ শতাংশ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সেবা পান না বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সংকট রয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সেবা সীমিত থাকায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা ও বিষণ্নতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পারিবারিক চাপ, অর্থনৈতিক সংকট, কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
তাঁরা আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক অপবাদ, কুসংস্কার, সচেতনতার অভাব ও সংকোচের কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে দ্বিধা করেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বক্তারা জানান, সঠিক সময়ে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরিবারের সহযোগিতা পেলে অনেক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের দিনরাত পরিচর্যা করা মা, স্ত্রী ও বোনদের যত্ন এবং সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

















