মাহবুবুল হক খান দিনাজপুর প্রতিনিধি :
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ সারা দেশের ন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে।
এ বছর ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই ধর্মীয় উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রতিবছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যেমন আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করে, তেমনি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই উপলক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত রক্ষাকারী ইউনিট হিসেবে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার সাথে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এ বছর দিনাজপুর ৪২ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পূজা উপলক্ষে ব্যাটালিয়ন সদরের ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে ২২টি, দিনাজপুর জেলার বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টিসহ সর্বমোট ৮৬টি পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪টি পূজামন্ডপই আন্তর্জাতিক সীমারেখার খুব নিকটে অবস্থিত। এ প্রেক্ষাপটে পূজার সময়সীমাজুড়ে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে করে কোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন যেন তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে পারেন।
বিজিবি’র টহল দল ইতোমধ্যেই দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পূজা মন্ডপসমূহের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিমা বিসর্জনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই টহল তৎপরতা জোরদার থাকবে। শুধুমাত্র বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তৎপরতাই নয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্প্রীতিমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন কাজ করে যাচ্ছে।

দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক এবং বিজিবি’র টহলদল পূজামন্ডপ এলাকায় উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় ও উপস্থিতির মাধ্যমে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বরাবরের মতোই সীমান্তে বসবাসরত জনগণের জানমাল রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ থেকে কাজ করছে।
সীমান্ত এলাকার প্রতিটি মানুষ বিজিবির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের সচেতনতা ও সহযোগিতাই বিজিবির সবচেয়ে বড় শক্তি। সীমান্তে বা পূজামন্ডপ এলাকায় কোন সন্দেহজনক ব্যক্তি বা তৎপরতা পরিলক্ষিত হলে দ্রুত বিজিবিকে জানানোর আহ্বান করা হচ্ছে।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলো যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করা বিজিবির অন্যতম অগ্রাধিকার।

















