মো:আলি উল্লাহ,(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
পবিত্র রমজান মাস এলেই কয়েকগুণ বেড়ে যায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ এলাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোল ও মাঠার চাহিদা। নিরাপদ ও উপাদেয় পানীয় হিসেবে সরবতের বিকল্প হিসেবে রোজাদারদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সলপের ঘোল। ফলে প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে দুইশ’ মণ পর্যন্ত ঘোল ও মাঠা বিক্রি হচ্ছে।
রমজানে ভোর থেকেই উল্লাপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা সলপ রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় জমে ওঠে ঘোলের বাজার। শুধু স্থানীয় নয়, বেলকুচি, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ সদর ও শাহজাদপুর উপজেলা ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা ভিড় করছেন সলপে ঘোল ও মাঠা কিনতে।
ঘোল প্রস্তুতকারীরা জানান, ভোরের আগেই গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে গরুর দুধ সংগ্রহ করা হয়। এরপর আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা দুধ জ্বাল দিয়ে সারা রাত জমিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দুধের সঙ্গে চিনি ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু এই পানীয়। বর্তমানে সলপ এলাকায় ৭ থেকে ৮টি ঘোলের কারখানা রয়েছে এবং প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় সব ঘোলই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
রমজানে চাহিদা ও বেচাকেনা বাড়লেও অনেক প্রস্তুতকারক খুচরা পর্যায়ে দাম অপরিবর্তিত রেখেছেন। সলপ এলাকায় প্রতি লিটার ঘোল ৮০ টাকা এবং মাঠা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকারিতে প্রতি লিটার ঘোল ৬০ টাকা ও মাঠা ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও জেলা শহর ও অন্যান্য এলাকায় খুচরা পর্যায়ে ঘোল ১০০ টাকা এবং মাঠা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, দুধ ও চিনির দাম বাড়ায় কিছু এলাকায় দাম বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন সান্যাল জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় সলপে উন্নতমানের ঘোল উৎপাদনের সূচনা হয়। ১৯২০ সালের দিকে এ ব্যবসার যাত্রা শুরু হলেও ১৯২২ সালে সলপ রেলস্টেশন স্থাপনের পর স্থানীয় সাদেক আলী খানের হাত ধরে এটি বাণিজ্যিক রূপ লাভ করে। সে সময় কলকাতাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সলপের ঘোল সরবরাহ করা হতো।
শতবর্ষ পেরিয়েও সলপের ঘোলের সুনাম অটুট রয়েছে। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ঘোল কারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই ঐতিহ্যবাহী পানীয় বিক্রি করে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন।


















