মোঃ আলি উল্লাহ,সিরাজগঞ্জ জেল প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পে জেলা শহরকে কার্যকরভাবে যুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় নাগরিকরা। শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা রায়পুর এলাকায় জংশন স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান এবং বর্তমান রেলপথের নকশা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
‘সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রত্যাশার পর সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান পরিকল্পনায় জেলা শহরের জনগণ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একসময় রেল যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা সিরাজগঞ্জ বর্তমানে আধুনিক রেলসেবার সুবিধা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। তাদের মতে, রায়পুর এলাকায় জংশন স্টেশন স্থাপন করা হলে শহরের মানুষ সরাসরি রেল যোগাযোগের সুবিধা ভোগ করতে পারবে এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং পণ্য পরিবহনের জন্য উন্নত রেল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব অনুযায়ী, কালিয়াহরিপুর থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত রেল সংযোগ অক্ষুণ্ন রেখে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে রায়পুরকে জংশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ও তুলনামূলক কম হবে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিমসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সিরাজগঞ্জের জনগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
বক্তারা আরও জানান, এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি ও দাবি উপস্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তারা সতর্ক করে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার (বা প্রধানমন্ত্রীর) বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচির ঘোষণা দেন। স্থানীয়দের আশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রেলপথ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে এবং সিরাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হবে।


















