সামিয়া সুলতানা সাবনম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়,ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি:
নজরুল চেতনার বৈশ্বিক সেতুবন্ধ গড়ে তোলার প্রত্যয়
বাংলাদেশ ও ভারতের দুই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত নজরুল বিষয়ক গবেষণা জার্নাল ‘নজরুল জার্নাল’-এর তৃতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নজরুল গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত করা এবং দুই বাংলার একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যেই এ যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে জার্নালটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
জার্নালটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ এবং নজরুল সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
সম্পাদকীয়তে যা উল্লেখ রয়েছে-
‘নজরুল চেতনার বৈশ্বিক সেতুবন্ধ’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের আকাশে এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর সাহিত্য ও জীবনবোধ কেবল বাংলাভাষী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বিশ্বজনীন মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার চিরন্তন আখ্যান।
সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, দুই বাংলার স্মৃতিসিক্ত দুটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান—ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রয়াসে প্রকাশিত এ জার্নাল নজরুলচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এ সংখ্যাটি প্রকাশের গুরুদায়িত্ব পালন করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নজরুলচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং তাঁর সাহিত্যকর্মের গভীরতর তাৎপর্য অনুসন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে।
জার্নালের তৃতীয় সংখ্যায় নজরুলের জীবন, গান, কবিতা, নাটক, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অভিভাষণসহ সাহিত্যের নানাবিধ অনুষঙ্গ নিয়ে মোট ১৪টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এসব প্রবন্ধে নজরুলের সৃষ্টিকে নতুন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করেছেন।
সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, একটি মানসম্মত গবেষণা জার্নালের অন্যতম শর্ত হলো নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন। এ সংখ্যার প্রবন্ধসমূহ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ মূল্যায়ন করেছেন, যা জার্নালের গুণগত মান নিশ্চিত করেছে।


















