নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরর বাংলা নিউজ :
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও কেনাবেচা চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিনের পর দিন মাদকের আসর বসছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার কেডিসি রোডে অন্তত ৫ থেকে ৬টি স্পটে নিয়মিতভাবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন হচ্ছে। এছাড়াও সারগোডাউনের পশ্চিম ও উত্তর পাশ, কলাবাগান, গরুহাটি, ঘাটপাড় ব্রিজ এলাকা, মামুদপুর, থানার পেছনের লিচুবাগান আদিবাসী পাড়া, শান্তিনগর, মির্জাপুর, শিমুলতলি ও ঘোড়াঘাট রেলঘুমটি সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এসব এলাকায় অসাধু চক্রের আনাগোনা বেড়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কৌশলে কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে মাদকের জালে জড়িয়ে ফেলছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সী যুবকদের মধ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এতে করে অনেক পরিবার গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক বলেন,
“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে। চোখের সামনে তারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো অভিযান বা স্থায়ী সমাধান আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”
সচেতন মহলের মতে, মাদক ব্যবসা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকেই নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছোটখাটো অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হয়ে উল্টো আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এ ধরনের প্রকাশ্য মাদক বাণিজ্য চালু রয়েছে?
সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে চিহ্নিত স্পটগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি যুব সমাজকে সচেতন করতে সামাজিক উদ্যোগ ও পরিবারভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
বিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা—মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে প্রশাসন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। উঠতি প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়াই সময়ের দাবি।


















