সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রান্ধুনীবাড়ি এলাকায় বংশপরম্পরায় গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ টিকে থাকার কঠিন সংকটে পড়েছে। একসময় হাঁড়ি, পাতিল, কলসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শৌখিন মাটির সামগ্রী তৈরি করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করলেও সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন প্রায় উল্টো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় রান্ধুনীবাড়িতে তৈরি মাটির পণ্যের কদর ছিল পুরো জেলাজুড়ে। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই ছিল ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যের সহজলভ্যতায় ধীরে ধীরে কমে গেছে মাটির জিনিসের ব্যবহার। আধুনিক তৈজসপত্রের দাপটে প্রাচীন এই পেশা এখন বিলুপ্তির মুখে।
কারিগররা জানান, আগে বিভিন্ন ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ও কলস তৈরি হলেও বর্তমানে সেগুলোর বাজার নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে এখন তারা মূলত দইয়ের পাত্র তৈরি করছেন। প্রতিদিন দু’জন শ্রমিক মিলে প্রায় ২৫০টি পাত্র তৈরি করা যায়। প্রতি পিস ১১ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হলেও এতে যে সামান্য লাভ হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
কারিগরদের তৈরি এসব পাত্র শুধু সিরাজগঞ্জেই নয়, পাবনাসহ বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হয়। তবুও আগের মতো আয় না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে তাদের।
প্রবীণ মৃৎশিল্পী ভানু পাল বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা এই কাজ করেই সংসার চালিয়েছেন। এখন মানুষ মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর হয়তো এই এলাকায় মাটির শিল্পের কোনো চিহ্নই থাকবে না।”
আরেক কারিগর মিনা পাল জানান, অল্প আয়ে সংসার চালানো কঠিন হলেও বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখার জন্যই তারা এখনো মাটির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা, স্বল্পসুদে ঋণ এবং বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। তা না হলে একসময় রান্ধুনীবাড়ির মাটির চাকার শব্দ শুধু স্মৃতিতেই রয়ে যাবে।


















