মো. রেজাউল ইসলাম রিজু, স্টাফ রিপোর্টার, মিরর বাংলা নিউজ:
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের মৃত্যুহার কমানো এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্য চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কৃষকদের মাঝে অ্যারেটরসহ বিভিন্ন আধুনিক মৎস্য চাষ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচিত মৎস্যচাষীরা উপকৃত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের আয়োজনে “ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়)” এর আওতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে উপকরণ তুলে দেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. ফজল ইবনে কাওসার আলী। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মৎস্য বিভাগের কর্মচারী এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের মৎস্যচাষীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতি দূর করে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অ্যারেটর (Aerator) মেশিনসহ প্রয়োজনীয় মৎস্য চাষ উপকরণ বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অ্যারেটর ব্যবহারের ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, ফলে মাছের মৃত্যুহার কমবে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন,দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার কৃষক ও মৎস্যচাষীদের উৎপাদনমুখী করতে নিয়মিত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের দেওয়া উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি চাষিদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন বলেন, সরকারের এ ধরনের প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। উপকারভোগীরা সঠিকভাবে উপকরণ ব্যবহার করলে এ প্রকল্পের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. ফজল ইবনে কাওসার আলী বলেন, বর্তমান সময়ে লাভজনক মাছ চাষের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে অনেক সময় মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং মৃত্যুহারও বেড়ে যায়। সরকারের ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়)’ এর আওতায় বিতরণ করা অ্যারেটরসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, চাষিদের ক্ষতি কমবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন। উপজেলা মৎস্য বিভাগ ভবিষ্যতেও চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
উপকারভোগী আরজু বেগম বলেন, পুকুরে অক্সিজেনের অভাবে অনেক সময় মাছ মারা যায়। সরকারের দেওয়া অ্যারেটর আমাদের জন্য অনেক উপকারী হবে। এতে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং ক্ষতি কমবে।
অপর উপকারভোগী চন্ডি মহন্ত বলেন,এ ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা সহজ হবে। আমরা আশা করছি, এতে উৎপাদন বাড়বে এবং আমাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে।
অনুষ্ঠিানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।
সরকারি এ ধরনের সহায়তা প্রান্তিক মৎস্যচাষীদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আয় বৃদ্ধি ও দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


















