মো. রেজাউল ইসলাম রিজু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর পাল্টাপুর ইউনিয়নের উত্তর সাদুল্যাপাড়া নদীর তীরবর্তী মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘সাপ দিয়ে পাতা’ খেলা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় উত্তর সাদুল্যাপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শত শত দর্শকের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পায় হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্য।
খেলা শুরুর আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বীরগঞ্জ ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক তরুণ উদ্যোক্তা মো. বিয়েল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক লোকজ খেলা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
নতুন প্রজন্মকে মোবাইল ও ভার্চুয়াল জগতের বাইরে এনে গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতেও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন করা হবে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ৪ নম্বর পাল্টাপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে গ্রামীণ খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
এ ধরনের আয়োজন তাদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলাকাবাসীকে একত্রিত করে আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। খেলা উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক দর্শক ভিড় করেন।
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ খেলাধুলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


















