সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার সারিয়াকান্দি যমুনা নদীতে অবৈধভাবে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরার সময় দুই জেলেকে আটক মৎস কর্মকর্তা। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতে উপস্থিত করে, প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও মাছ ধরার নিষিদ্ধ সরঞ্জাম জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোর ৫ টা থেকে সকাল সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘন্টা অভিযান চালানো হয়। উপজেলার কাজলা ও হাটশেরপুর ইউনিয়নের শালিক চর ও টেংরাকুরা চর এলাকার যমুনা নদীতে মৎস্য অফিসের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোলাম শাকিল আহম্মেদ। আটক করে নিয়ে আসার পর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়,
যমুনা নদীতে নিয়মিত ব্যাটারি থেকে ইনভার্টারের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করছে একাধিক অবৈধ চক্র। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দিনে-রাতে প্রকাশ্যে নদীতে ইনভার্টার ব্যবহারে মাছ শিকারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শুধু মাছ নয়, অন্যান্য জলজ প্রাণীও নিধনের শিকার হচ্ছে। ফলে জীব বৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এসব কারনেই মৎস্য রক্ষায় এ অভিযান চলানো হয়।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস দিক নির্দেশনায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। যার মধ্যে ৮ টি ইনভার্টার (বৈদ্যুতিক সংকেতের মেরু বদল করার যন্ত্রাংশ) ১৫ টি বড় আকারের ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক তার রয়েছে। অভিযান চলার সময় দুইজন জেলেকে হাতে-নাতে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ মারার সময় আটক করা হয়।
আটক হওয়া দুই জেলে হলেন- কাজলা ইউনিয়নের টেংরাকুরা গ্রামের আনন্দ বাজার এলাকার সালাম শেখ ও পাকেরদহ গ্রামের সোনা চৌধুরী। এছাড়াও শক দিয়ে ধরা প্রায় ৩০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিলো জব্দ তালিকায়। অভিযান শেষে এসব মাছ স্হানীয় তিনটি মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়া হয় কালিতলা ঘাটে এসে।
স্থানীয় জেলেরা বলেন, যমুনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য শিকারি চক্র ব্যাটারির সাহায্যে ইনভার্টার দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে পানিতে ফেললেই সহজে মাছ মরে যায়। এতে ছোট-বড় মাছের সাথে মরে যাচ্ছে নদীর জলজ প্রাণীজ সম্পদ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোলাম শাকিল আহম্মেদ বলেন, ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করে শক দিয়ে নদী থেকে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করায় মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদীর তলদেশের জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। যারা এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফেরদৌস, উপজেলার যমুনা নদীতে নিষিদ্ধ বৈদ্যুতিক শক যন্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ নিধন করছেন অসাধু জেলেরা। তারা নদীর তলদেশে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরছিলেন, যা সরাসরি মৎস্য আইনের পরিপন্থি। এতে শুধু মাছ নয়, ডিম পাড়া মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী যেমন কাঁকড়া, কুচিয়া, শামুক, গুইসাপ পর্যন্ত মারা পড়ে। এরকম অভিযান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।


















