মো. গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পলাশি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আটজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহত সাতজনকে পুলিশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
নিহত মো. শাহীন (৫৫) রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আকরাম আলী। পুলিশ জানিয়েছে, আটক অন্য সাতজন দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তাদের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, গত (৩ ফেব্রুয়ারী) গভীর রাতে একটি ট্রাকে করে আটজন ব্যক্তি ঘরের তালা কাটার সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ পলাশি বাজার এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং অন্যরা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এবং একজনকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
আহতরা হলেন—পুঠিয়ার চকপলাশী গ্রামের লালুর ছেলে মো. শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাই উপজেলার নানজেগুড়ি এলাকার মাহির ছেলে খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বামালের চর গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০), একই উপজেলার কুটিবয়রা গ্রামের একানদানি সরকারের ছেলে মামুন (৪২) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে স্থানীয়রা তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটজনকে উদ্ধার করে। একজন নিহত হয়েছেন, বাকিরা পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


















