বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ-খানসামা সীমান্তবর্তী এলাকায় কলার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে রত্ন জাতের ফুলকপি চাষ করে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম।
একই জমিতে কলার পাশাপাশি ফুলকপি চাষ করে বাড়তি ফলন ও আয়ের প্রত্যাশা করছেন তিনি। তবে সময়মতো সার না পাওয়া এবং কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন এ কৃষক।
বীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ও খানসামা উপজেলার পার্শ্ববর্তী খানসামা ঘাটপাড়ের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে ‘ভিলেজ এগ্রো নার্সারি এন্ড ক্যাটল ফার্ম’। ফার্মটির স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি প্রায় ২ একর ৫ শতাংশ জমিতে সাগর জাতের কলা চাষ করেছেন। একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে আবাদ করেছেন রত্ন জাতের ফুলকপি।
কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, কলা দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় এর সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি আয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন। বর্তমানে জমিতে কলা ও ফুলকপির অবস্থা ভালো থাকলেও সার ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম দিনাজপুর টিভি’কে বলেন, আমি খুব আশা নিয়ে কলার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি লাগিয়েছিলাম। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছি না। সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী সারও পাচ্ছি না। ভালোভাবে পরিচর্যা করতে না পারলে হয়তো ফলন খারাপ হবে। এতে আমার উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, সেটাও জানি না। তবে এখন পর্যন্ত ফসল অনেক ভালো রয়েছে। সামনে কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেলে আরও ভালো কিছু করতে পারব বলে আশাবাদী।

এদিকে কৃষকের অভিযোগের বিষয়ে খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার দিনাজপুর টিভি’কে বলেন,খানসামায় কলার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি চাষের এমন উদ্যোগ আমি এই দিকে প্রথম করেছি,এ বিষয়ে আমরা চাষিদের বরাবরই পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমার টিম প্রতিদিনই চাষিদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ফসলের মাঠ সরেজমিনে দেখে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
কলা যেহেতু প্রায় এক বছরের ফসল, তাই এর সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি চাষ করলে কৃষক একই জমি থেকে বাড়তি উৎপাদন ও আয় করতে পারেন। এটি কৃষকের জন্য বেশ লাভজনক একটি উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে এখনো আমার কাছে আসেননি। তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হতো। তবে আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি আজই আমার একজন সহকারীকে তাঁর ফসলের মাঠে পাঠিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করাব। ফসলের বর্তমান অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কলার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি চাষ কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি পদ্ধতি। এতে একই জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে। তবে সফলতার জন্য সঠিক জাত নির্বাচন, সময়মতো সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের কারিগরি পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, আমিনুল ইসলামের এ উদ্যোগ সফল হলে বীরগঞ্জ-খানসামা সীমান্তবর্তী এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও একই পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত হতে পারেন।
















