পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
গলাচিপা পৌর এলাকায় স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বর্তমানে আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘটিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার বাসিন্দা মজিবুর রহমানের পুত্র মেহেদী হাসান রনি (৩২) প্রায় দশ বছর আগে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদ মৃধার কন্যা ইভা আক্তারকে বিবাহ করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের সাত বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি ইভা আক্তার একটি অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে রনি একাধিকবার স্ত্রীকে সতর্ক করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তিনি মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথোপকথন চালিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন রনি স্ত্রীকে শাসন করলে প্রতিবেশী বেল্লালের স্ত্রী রিতা বেগম (৪০) তার দুই সন্তানসহ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে রনির বাড়ির সামনে উপস্থিত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে রনির ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে রনিকে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার মা নাজমা বেগমকেও মারধর করা হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রনিকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রনি অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কে প্রতিবেশী রিতা বেগম প্রত্যক্ষভাবে উৎসাহ ও সহায়তা করেছেন। স্ত্রীকে শাসন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে রিতা বেগম তার সন্তানসহ কয়েকজনকে নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। শুধু তাই নয়, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিকেলে কয়েকজন সন্ত্রাসী তার বাড়িতে গিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দিয়ে যায় বলে দাবি করেন রনি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত রিতা বেগম মুঠোফোনে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রনি তার স্ত্রীকে তার সামনেই মারধর করছিলেন। তিনি বাধা দিতে গেলে উল্টো তাকেই আঘাত করা হয়। আত্মরক্ষার্থেই তিনি প্রতিরোধ করেছেন বলে তার দাবি। এ বিষয়ে রনির স্ত্রী ইভা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করেছে।
















